সরিষাবাড়ী খাদ্য গুদামে সিন্ডিকেটের থাবা, তদন্তের আশ্বাস জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের
সরিষাবাড়ী খাদ্য গুদামে সিন্ডিকেটের থাবা, তদন্তের আশ্বাস জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের
জামালপুর প্রতিনিধি :
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলা খাদ্য গুদামকে কেন্দ্র করে একটি অবৈধ চাল ও ধান ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন জামালপুর সদর উপজেলার খড়খড়িয়া গ্রামের গেন্দু ইসলামের ছেলে মোস্তাফিদুল ইসলাম লিংকন। এ বিষয়ে যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জামালপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো: আসাদুজ্জামান।
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে তিনি বলেন, সিন্ডিকেটের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে তদন্ত করা হবে। সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। খোজ নিয়ে জানা যায় , মোস্তাফিদুল ইসলাম লিংকন দীর্ঘদিন ধরে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে সরকারি চাল সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করে আসছেন। এর আগে, ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর র্যাব-১৪ জামালপুর সদর উপজেলার ৫ নম্বর ইটাইল ইউনিয়নের দমদমা বকুলতলা বাজারে অবস্থিত লিংকনের রাইস মিল থেকে ৫০ কেজির ৩৯৮ বস্তা, মোট ১৯,৮৪০ কেজি সরকারি চাল উদ্ধার করে।
উদ্ধারকৃত চালের আনুমানিক মূল্য ছিল ৮ লাখ ৯২ হাজার ৮০০ টাকা।পরদিন ১২ ডিসেম্বর, সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জিন্নাত শামছুন্নাহার বাদী হয়ে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫(১) ধারায় মোস্তাফিদুল ইসলাম লিংকনসহ ৫/৬ জন অজ্ঞাতনামাকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার তদন্ত শেষে রহস্যজনকভাবে তদন্তকারী কর্মকর্তা ফাইনাল রিপোর্ট দাখিল করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে জেলার বিভিন্ন স্থানে র্যাবের অভিযানে সরকারি প্রকল্পের চাল উদ্ধার হওয়ার পর লিংকন তার কার্যক্রম সরিষাবাড়ী উপজেলায় স্থানান্তর করেন। গত প্রায় তিন মাস ধরে তিনি ২-৩ জন সহযোগীকে নিয়ে সরিষাবাড়ী খাদ্য গুদামে নিয়মিত যাতায়াত করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। খাদ্য গুদাম সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে সরকারি খাদ্য গুদামে চাল সরবরাহের জন্য সরিষাবাড়ী উপজেলার মহাদান ইউনিয়নের সানাকুর এলাকার এসএস অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী আনোয়ার উস সাদাব (লাঞ্জু মিয়া)-কে দুই কিস্তিতে মোট ১২৮ টন ধান বরাদ্দ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, এসএস অটো রাইস মিলের কর্মচারী পরিচয়ে মোস্তাফিদুল ইসলাম লিংকন ওই ধান সংগ্রহ ও চাল সরবরাহ কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে তিনি বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের চাল কম দামে সংগ্রহ করে অন্যত্র পাচার করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে সরকার যেমন আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে, তেমনি সৎ ও বৈধ মিল মালিকরাও ন্যায্য বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এদিকে অভিযোগ এর বিষয়ে মোস্তাফিদুল ইসলাম লিংকনকে মুঠোফোনে কল দেওয়া হলে নাম্বারটি বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। সরিষাবাড়ী উপজেলা খাদ্য গুদামের কর্মকর্তা রুবিনা আক্তার বলেন,"লিংকনকে আমরা এসএস রাইস মিলের মালিক লাঞ্জু ভাইয়ের কর্মচারী হিসেবেই চিনি।
তবে কেউ যদি সিন্ডিকেট গড়ে বা অন্যায়ভাবে খাদ্য গুদামের কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে, তাহলে তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।" জামালপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আসাদুজ্জামান বলেন,অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স